ঢাকা , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ , ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাঠভর্তি পশু দর্শনার্থীও বিপুল, তবে বেচাকেনার খাতা শূন্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-২৪ ১১:৪৮:২৮
মাঠভর্তি পশু দর্শনার্থীও বিপুল, তবে বেচাকেনার খাতা শূন্য মাঠভর্তি পশু দর্শনার্থীও বিপুল, তবে বেচাকেনার খাতা শূন্য
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর আকাশে-বাতাসে এখন কোরবানির ঈদের আগমনী বার্তা। খড়ের চেনা গন্ধ, চার পায়ার (গবাদি পশু) ডাক আর ব্যাপারীদের বিরামহীন হাঁকডাকে ঢাকার পশুর হাটগুলো সম্পূর্ণ নতুনরূপে সেজেছে। মাঠজুড়ে রেকর্ডসংখ্যক পশু আর উৎসুক জনতার উপচেপড়া ভিড় থাকলেও, কেনাবেচার মূল খাতা এখনো খোলা হয়নি বললেই চলে।

গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী স্থায়ী হাট থেকে শুরু করে উত্তরের দিয়াবাড়ী কিংবা দক্ষিণের পোস্তগোলা—সর্বত্রই এখন চলছে ক্রেতা ও বিক্রেতার মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। বিক্রেতারা লালন-পালনের বিপুল খরচের দোহাই দিয়ে দাম হাঁকছেন চড়া, আর মধ্যবিত্ত ক্রেতারা পকেটের নাগাল বুঝে ‘অপেক্ষা করো এবং দেখ’ নীতিতে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন। এর মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার টিকটকার ও ইউটিউবারদের কল্যাণে হাটগুলো খণ্ড খণ্ড বিনোদন ও সরাসরি সম্প্রচারের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, তবে হাটে প্রকৃত ক্রেতার দেখা মিলছে খুবই কম।

রাজধানীর প্রধান গাবতলী পশুর হাটে এবার দেশি খামারিদের প্রাধান্যই বেশি। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় পশুর অবৈধ অনুপ্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় স্থানীয় খামারিরা বুক বাঁধছেন ভালো মুনাফার আশায়। তবে হাটের ভেতরের বাস্তব চিত্র সাধারণ ক্রেতাদের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়।

মহিষ কিনলে গরু ফ্রি

কেরানীগঞ্জ থেকে আসা মজিবুর রহমানের এক টন ওজনের মহিষের দাম হাঁকা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। ক্রেতা আকৃষ্ট করতে তিনি অভিনব অফার দিয়েছেন—মহিষ কিনলেই দুই মণের একটি সাদা গরু সম্পূর্ণ ফ্রি!

অন্যদিকে জামালপুর থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার গ্র্যাজুয়েটের ‘কেটুএন অ্যাগ্রো’ খামারের রাজকীয় গরুগুলো এবার গাবতলীর মূল আকর্ষণ, যেগুলোর একেকটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে, নাটোর থেকে আসা খামারি সোহান তার বিশালাকার মহিষের নাম রেখেছেন ‘কিম জং উন’, দাম সাড়ে চার লাখ টাকা।

কিন্তু এসবের বিপরীতে মাঝারি ও ছোট ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। গাবতলীর হাটে তিন মণ মাংস মিলবে এমন গরুর দাম এক লাখ পাঁচ হাজার থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা এবং চার মণ মাংসের গরুর দাম এক লাখ ৪০ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে। গড়ে প্রতি মণ মাংসের দাম পড়ছে ৩২-৩৫ হাজার টাকা।

চুয়াডাঙ্গার শফি বিশ্বাস ১৪টি দেশি ষাঁড় এনে প্রতিটি দুই লাখ ১০ হাজার থেকে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা দাম চাচ্ছেন। তার মতে, খাবারের দাম মানুষের খাবারের চেয়ে বেশি, ৩৫ হাজার টাকা মণ না বেচলে লোকসান হবে।

বাগেরহাটের আব্দুর রহিম ১৫টি গরু নিয়ে দুদিন ধরে বসে আছেন, অথচ এখনো কেউ দামই করেনি। মিরপুর পল্লবীর কাপড় ব্যবসায়ী হাজি মিরন মিয়া দুই সন্তানকে নিয়ে এসে বলেন, এখনই গরু কিনে রাখার জায়গা নেই ঢাকায়। ব্যাপারীরা দাম বেশি চাচ্ছেন, শেষ মুহূর্তে হয়তো কিছুটা কমবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ